Internet (ইন্টারনেট)
ইন্টারনেট হলো পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য
নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক
নেটওয়ার্কে সংযুক্ত কম্পিউটারের সাথে ভিন্ন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত কম্পিউটারের
যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ইন্টারনেট ওয়ার্কিং (Internetworking) বলা হয়। সে হিসেবে
ইন্টারনেটকে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটওয়ার্কও বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন
প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেকগুলো নেটওয়ার্কের সমন্বিত অবস্থাই ইন্টারনেট।
ইন্টারনেট বর্তমান বিশ্বের গতিময়তার মাইল ফলক। এটি তথ্যের এক বিশাল ভান্ডার।
যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের এটি একটি অন্যতম মাধ্যম। ইন্টারনেট দিয়ে বিভিন্নভাবে
তথ্য সঞ্চালন ও আহরণ করা যায়।নিত্য নতুন উদ্ভাবনের ফলে দিন দিন ইন্টারনেটের
সুযোগ-সুবিধা এবং তথ্যের সমারোহ বেড়ে চলেছে। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন শব্দ ও বিষয়।
সাইবার ক্যাশ, সাইবার ক্যাফ, সাইবার কয়েন, ইন্টারনেট কমার্স, ইন্টানেট ফোন,
ইলেকট্রনিক মেইল, ইলেকট্রনিক বুক, ইলেকট্রনিক লাইব্রেরি, ইলেকট্রনিক ক্যাম্পাস এ
ধরনের কয়েকটি বিষয়।
ইন্টারনেটে কি করা যায়
১। ইলেকট্রনিক মেইলঃ ইলেকট্রনিক মেইল ই-মেইল) হলো ইন্টারনেটের সবচেয়ে জনপ্রিয়
ফিচার। এটি হলো কম্পিউটারভিত্তিক একটি সংবাদ আদান-প্রদান ব্যব্সথা। এ ব্যবস্থায়
একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তার কোন চিঠি (মেইল), ডকুমেন্ট বা অন্য যেকোন প্রকার
তথ্য পৃথিবীর যেকোন স্থানে অবস্থিত অপর এক বা একাধিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে তড়িৎ
গতিতে পাঠাতে পারে। এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
২।
ইনফরমেশন (তথ্য): ইন্টারনেট থেকে যেকোন বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। তাই
বর্তমানে ইন্টারনেট রিসার্চ টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইন্টারনেটে ঢুকে যেকোন সার্চ
প্রোগ্রামে যেকোন বিষয় টপিক লিখে নির্দেশ দিলে ঐ বিষয় সম্পর্কিত সব তথ্য
কম্পিউটারের পর্দায় পাওয়া যায়। সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, একাডেমিক পেপার, ডিকশনারি,
বিশ্বকোষ, ট্রাভেল গাইড, সরকারি নথিপত্র, চাকুরির খবরাখবর, সদ্য ঘটে যাওয়া কোন
বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য ইত্যাদি সহজেই পাওয়া যায়। বিনামূল্যে ইন্টানেট থেকে অনেক
প্রয়োজনীয় বিষয়ের সাহায্য পাওয়া যায়।
৩। বিনোদনঃ ইন্টারনেটে বিনোদন বিষয়ক
বিভিন্ন বিষয় পাওয়া যায়। যেমনঃ রেডিও ও টিভি প্রোগ্রাম, বিভিন্ন চলচিত্র, ভিডিও
ক্লিপ, গান, কম্পিউটার গ্রেম ইত্যাদি। পৃথিবীর অন্য প্রান্তের কারো সাথে
ইন্টারএকটিভ গ্রেম লেখা যায়।
৪। ডিসকাশন গ্রুপঃ ইন্টারনেটে একই বিষয়ে আগ্রহী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের
লোকদের সাথে আলোচনায় মেতে উঠা যায়। যেকোন বিষয়ে প্রশ্ন করা যায়, কোন সমস্যা নিয়ে
আলোচনা করা যায় এবং মজার মজার গল্প পড়া যায়। বিভিন্ন বিষয়ক হাজারো ডিসকাশন গ্রুপ
পাওয়া যায়। যেমনঃ পরিবেশ, খাদ্য, গান, রাজনীতি এবং খেলাধূলা ইত্যাদি।
৪। চ্যাটঃ চ্যাট প্রোগ্রামের সাহায্যে
ইন্টারনেটে অন্য এক বা একাধিক লোকের সাথে লেখা ম্যাসেজ বিনিময় করা যায়। ম্যাসেস
পাঠালে সাথে সাথে তা অন্যের কম্পিউটারের মনিটরে প্রদর্শিত হয়। একই সময়ে একজনের
সাথে অথবা একাধিক জনের সাথে চ্যাট করা যায়।
৫। ফ্রি সফটওয়্যারঃ ইন্টানেটে অনেক ফ্রি
সফটওয়্যার পাওয়া যায়। অনেকে ইন্টারনেটে তাদের তৈরি প্রোগ্রাম স্বল্পসময়ের জন্যে
ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে। এগুলোকে শেয়ারওয়্যার বলা হয়। ব্যবহারকারী এসব
প্রোগ্রাম পছন্দ করলে মূল্য পরিশোধ করে স্থায়ীভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
৬। অনলাইন শপিং: ইন্টানেটে বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইট আছে। এসব ওয়েব সাইটে
তাদের পণ্যের বর্ণনা দেয়া থাকে। যে কেউ ঘরে বসেই নির্দিষ্ট কোন পণ্য পছন্দ করে
ইন্টারনেটেই অর্ডার দিতে পারেন এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে
পারেন। যেসব পণ্য ক্রয় করা যায় তাহলো-বই, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, ফুল, গানের সিডি,
নতুন এবং পুরাতন গাড়ি ইত্যাদি।
৭। চাকরীঃ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে
চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে থাকে। নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কোন পোষ্টের জন্য আবেদন
করে চাকরির ব্যবস্থা করা যায়।
৮। ঘরে বসে আয়ঃ ইন্টারনেটে অনেট কাজের অফার পাওয়া যায়। যেমনঃ দেশী বিদেশী
বায়ারের (যারা কাজ করান) বিভিন্ন ধরনের কাজ ঘরে বসেই করা যায় এবং প্রচুর পরিমান
দেশী/বিদেশী টাকা/ডলার আয় করা যায়।
ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় বিষয়াবলীঃ
১। আইপি এ্যাড্রেস (IP Address): ইন্টারনেটে যুক্ত প্রতিটি কম্পিউটারের একটি
ঠিকানা থাকে। এ ঠিকানাকে বলা হয় আইপি এ্যাড্রেস। একটি আইপি এ্যাড্রেস গড়ে উঠে
৩২-বিট ব্যবহার করে। এই বিটগুলোর প্রতি আটটিকে নিয়ে গড়ে ওঠে একটি করে অকটেট।
সুতরাং, আইপি এ্যাড্রেসে থাকছে চারটি অকটেট বা ৩২-বিট। একটি আইপি এ্যাড্রেস
তিনভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে। যথা-
(ক) ডটেড ডেসিম্যাল-২০৩.৯১.১৩৯.২
(খ) বাইনারি-১১০০১০১১.১০১১০১১.১০০০১০১১.১০
(গ) হেক্সাডেসিম্যাল-CB: 5B: 8B:2
এভাবে
আইপি এ্যাড্রেসের জন্য সংখ্যা মনে রাখা কষ্টকর। তাই মনে রাখার জন্য ডোমেইন নেম
ব্যবহার করা হয়। আইপি এ্যাড্রেসকে শহরের কোন বাড়ির ঠিকানার সাথে তুলনা করা চলে।
যেমনঃ কোন এলাকার রাস্তার নাম্বার এবং বাড়ির নাম্বার থাকে। একটি রাস্তায় যত বাড়ি
থাকে তাদের মধ্যে কোন দুটি বাড়ির নাম্বার কখনো এক হতে পারে না। ঠিক তেমনি
নেটওয়ার্কে যুক্ত কোন দুটো কম্পিউটারের আইপি এ্যাড্রেস এক হতে পারে না। বাড়ির
ঠিকানায় যেমন রাস্তার নাম্বার এবং বাড়ির নাম্বার থাকে, আইপি এ্যাড্রেসেও দুটি অংশ
নেটওয়ার্ক এ্র্যাড্রেস এবং হোস্ট এ্যাড্রেস থাকে। ২০৩.৯১.১৩৯.২ ঠিকানায় ২০৩.৯১.১৩৯
হলো নেটওয়ার্ক এ্যাড্রেস এবং ২ হলো হোস্ট এ্যাড্রেস।
২। ডোমেইন নেম (Domain Name): আইপি এ্যাড্রেস নাম্বার দ্বারা লিখিত হয়। আইপি
এ্যাড্রেসের জন্য সংখ্যা মনে রাখা কষ্টকর। তাই আইপি এ্যাড্রেসকে সহজে ব্যবহারযোগ্য
করার জন্য ইংরেজি অক্ষরের কোন নাম ব্যবহার করা হয়। ক্যারেক্টার ফর্মের দেওয়া
কম্পিউটারের এরূপ নামকে ডোমেইন নেম বলা হয়। যেমনঃ আইপি এ্যাড্রেস ২০৩.৯১.১৩৯.২ এর
পরিবর্তে bdjobs.net ডোমেইন নেম ব্যবহার করা যায়। ডোমেইন নেমকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন
করা হয়, যাতে করে একই নাম অন্য কেউ না পায়। সে পদ্ধতিতে ডোমেইন নেমকে নিয়ন্ত্রণ
করা হয় তাকে DNS(Domain Naming System) বলে। এখানে bdjobs.net ডোমেইন নেম এ দুটি
অংশ দেখা যাচ্ছে। ডট এর পর শেষ অংশটিকে টপ লেভেল ডোমেইন বলা হয়। এটি দেখে সহজেই
বুঝা যায় প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের। টপ লেবেল ডোমেইনসমূহে আবার জেনেটিক এবং কান্ট্রি
এ দুটি বৃহৎ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
৩। ওয়েব পেজঃ ইন্টারনেট তথা ওয়েবে যে কেউ তার সম্পর্কে কোন তথ্য রাখতে পারে।
ওয়েবে কোন তথ্য যা লেখা, অডিও, ভিডিও, স্থির ছবি, এনিমেশন ইত্যাদি হতে পারে তা
নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে রাখা যায়। বতমানে সারা বিশ্বে বিভিন্ন বাণিজ্যিক
প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য ইন্টারনেটে তাদের পণ্য সম্পর্কিত তথ্য
পরিবেশন করছে। ওয়েবে এরূপ কোন তথ্য রাখার স্পেস বা পেজকে ওয়েব পেজ বলা হয়। ওয়েব
পেজ এক বা একাধিক পৃষ্ঠার হতে পারে।
৪। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবঃ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড
ওয়েবকে সংক্ষেপে ওয়েব নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। ওয়েব বলতে আমরা বুঝি, এটি একটি
বৃহৎ সিস্টেম যা অনেকগুলো সার্ভার (যা ওয়েব সার্ভার হিসেবে বিবেচিত হয়) সংযুক্তির
মাধ্যমে গঠিত হয়। এসব ওয়েব সার্ভার ইন্টারনেট ইউজারদের যেকোন ধরনের তথ্য সরবরাহ
করতে সক্ষম। এ তথ্য হতে পারে প্রচলিত টেক্সট ফাইল, ছবি, শব্দ বা অন্য কোন ফর্মেটের
ডাটা। এ সকল তথ্য ব্যবহার করার জন্য ইউজারকে কোন ব্রাউজার প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে
হয়। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত এমন দুটি ব্রাউজার হচ্ছে নেটস্কেপ নেভিগেটর, ইন্টারনেট
এক্সপ্লোরার।
৫। ওয়েব সার্চ ইঞ্জিনঃ ইন্টারনেটে অনেক
ওয়েব সার্ভার আছে। কোন নির্দিষ্ট তথ্যে সংশ্লিষ্ট ওয়েব সার্ভার এড্রেসটি জানা
থাকলে খুব সহজেই ওয়েব ব্লাউজারে নির্দিষ্ট করে ঐ তথ্যটি খুঁজে বের করা যায়। কিন্ত
যদি ওয়েব সার্ভারের ঠিকানাটি জানা না থাকে তাহলে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে সহজেই
যেকোন তথ্য খুঁজে বের করা যায়। সার্চ ইঞ্জিন এমন একটি টুল যা সমস্ত ইন্টারনেট
বিস্তৃত ওয়েব সাইটগুলোকে আয়ত্তের মধ্যে রাখে। বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন জনপ্রিয়
সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছ গুগল, ইয়াহু ইত্যাদি।
৬। ই-কমার্সঃ ইলেকট্রনিক কমার্সকে
সংক্ষেপে ই-কমার্স বলা হয়। বিভিন্ন উৎপাদনকারী বা বিক্রেতা তার পণ্যের বিবরণ, দাম,
মডেল ইত্যাদি তথ্য বিজ্ঞাপন আকারে তাদের ওয়েব পেজে প্রদর্শন করেন। ইন্টারনেটের
বদৌলতে বিশ্বের যেকোন প্রান্তের যে কেউ তার কম্পিউটারে বসে এসব দেখতে পায়। ক্রেতা
কোন পণ্য সম্পর্কে আগ্রহী হলে ওয়েব পেজের অর্ডার ফরমটি পূরণ করে বিক্রেতার নিকট
অর্ডার প্রদান করেন এবং একই পদ্ধতিতে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করেন। আর
বিক্রেতা তার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ক্রেতার নিকট পণ্য পৌঁছে দেন। ইন্টারনেটভিত্তিক
এরূপ ক্রয়পদ্ধতিকে অন-লাইন শপিং বলা হয় এবং ইন্টারনেটভিত্তিক সামগ্রিক এ ব্যবসায়
ব্যবস্থাপনাই হলো ই-কমার্স।













0 comments