What is Outsourcing ? ( আউটসোর্সিং কি ? )
ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আয় তথা অনলাইনে আয়। যে যেভাবে বলি না কেন, তার অর্থ দাঁড়ায় একটাই - নতুন একটা আয়ের ক্ষেত্র, নতুন পেশা ইত্যাদি। যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা খুবই নতুন একটা ধারণা। কেননা, এ দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শুধু মাত্র শহরে বসবাস করে এমন মানুষজন। দিন দিন অবশ্য এই অবস্থা পাল্টাচ্ছে। যাই হোক, আউটসোর্সিং হচ্ছে মূলত কারো অধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে শুধুমাত্র একটি কম্পিউটার এবং এন্টারনেট সংযোগ এর মাধ্যমে নিজ দক্ষতা প্রয়োগ করে অপর কোন ব্যক্তি বা কোম্পানীর কাজ সম্পন্ন করে অর্থ উপার্জন করা। যেমন-যে কেউ বাংলাদেশের যে কোন স্থান থেকে ইন্টারনেটের সাহায্যে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
বেকারত্ব দূরীকরণে আউটসোর্সিং
২০২১ সালের মধ্যে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেকার মুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া। প্রযুক্তির কাধে ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। আর এই গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য চলছে নানা রকম প্রক্রিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ দিনের নিরলস শ্রমের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেকার সমস্যা দূর করার বাস্তব সম্মত প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে-যার নাম “অনলািইন আর্নিং প্রোগ্রাম”।
আমরা আমাদের অনেক মূল্যবান সময় অযথাই ব্যয় করি। অথচ এ সময়টিক যদি অনলাইনে অর্থপূর্ণ উদ্দেশ্যে কাজে লাগাতে পারি তাহলে খুব সহজেই মাসে ৪০০-৫০০ ডলার আয় করা সম্ভব। অনলাইন থেকে আয়ের মূল মাধ্যম গুলো হলঃ পি.পি.সি, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটির, ওয়েবসাইট ডিজাইন, রিভিউ ও ব্লগ লেখা, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশ, ডেটা এন্টি সার্ভে, রেফারাল বিজনেস ইত্যাদি। “ অনলাইন আর্নিং প্রোগ্রাম” ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশের বেকার সমস্যা অনেকটাই দূর করা সহ বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তি ও শ্রম বাজারে মজবুত ভিত্তি তৈরি করবে বলে আমার বিশ্বাস।
আউটসোর্সিং এবং বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে এখনো আউটসোর্সিং-কে পেশা হিসেবে নিতে সবাইকে দশবার ভাবতে হয়। কারণ-পেশা হিসেবে এখনো তেমন সম্মান দেয়া হয়না-আউটসোর্সার/ফ্রিল্যান্সারদেরকে। একজন ইঞ্জিনিয়ার কোন একটি প্রাইভেট ফার্মে ছোটখাটো একটা জব করলেও তিনি গর্ব করে তা বলতে পারেন, কিন্তু যখন তিনি একজন ফ্রীল্যান্সার বা আউটসোর্সার এর কাজ করেন, তখন তাকে সেটা বলতে ইতস্তত বোধ করতে হয়। আসল কারণ হলো তার কাজ বা কাজের প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। এই সব শ্রেণীর মানুষের না বোঝার দায় কিন্তু পরোক্ষভাবে ফ্রীল্যান্সার বা আউটসোর্সারদের ঘাড়েই পড়ে এবং সাধারণ মানুষের নিকট বোধগম্য করে তোলার দায়িত্ব এই ফ্রিল্যান্সারদেরই।
অনলাইনে কাজ
অনলাইনে রয়েছে বিভিন্ন কাজের সুযোগ। আউটসোর্সিং করে অনেকেই এখন স্বাবলম্বি। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো শিখতে হবে। অনলাইন থেকে ভালো একটা আয় করতে আপনাকে প্রাথমিক পর্যয়ে ভেবে নিতে হবে যে কোন দিকে আপনি আপনার ক্যারিয়ার-কে এগিয়ে নিচে চাচ্ছেন। আর তাই পছন্দসই কোন একটি কাজ শিখে ফেলুন। উল্লেখ্য যে, অনলাইনে কাজ সবার জন্য। আপনি যে কোন দক্ষতা ভিত্তিক কাজ অনলাইনে করতে পারবেন।
অনলাইনে কাজের ধরন
অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কাজ পাওয়া যায় - তার মধ্যে কয়েকটি নিম্নে দেওয়া হইলঃ
১। গ্রাফিক্স ডিজাইন ২। ওয়েব সাইট ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, মেইনটেন্যান্স ৩। ডাট এন্টি (সকল প্রকার) ৪। নেটওয়ার্কিং ৫। ই-মার্কেটিং ৬। ফটোশপ ৭। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ৮। ই-কমার্স ৯। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ১০। ইনফরমেশন সিষ্টেম ১১। অনুবাদ ১২। বিক্রয় ও বিপনন ১৩। গ্রাহক সেবা ১৪। ব্যবসা সেবা ১৫। অফিস সহকারীর কাজ (সকল প্রকার) ১৬। সকল প্রকার লেখার কাজ ইত্যাদি ধরনের কাজ যা দূর থেকে করা যায়।
দক্ষতা অর্জন এবং সঠিক দিক-নির্দেশনা
বর্তমানে বাংলাদেশে এমম কম লোকই আছে, যারা কম্পিউটার ব্যবহার করে না এবং সাথে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। বেশির ভাগ মানুষ বিভিন্ মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। কারণে অকারণে ঘন্টার পর ঘন্টা অনলাইনে আমরা আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছি। অথচ এই ইটারনেট হতে হতে পারে আমাদের কর্মসংস্থান এর এক সুবিশাল পথ। একটু সচেতন হলেই এই সময় দিয়ে আমরা অনলাইনে বাড়তি আয়-রোজগার করতে পারি। সরকারি-বেসরকারি চাকুরির আশায় বসে না থেকে অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিক-নির্দেশনার। সঠিক দিক নির্দেশনার মাধ্যমে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রুপান্তর করা সম্ভব। নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে এবং সঠিক দিক-নির্দেশনা পেতে আপনি কোন একজন আউটসোর্সিং প্রফেশনাল এর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেনে এবং প্রয়োজনে ভালো কোন ইন্সটিটিউটে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
আউটসোর্সিং ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়
বর্তমানে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিষয় হচ্ছে আউটসোর্সিং। আউটসোর্সিং হচ্ছে বিলিয়ন ডলারের একটি আইটি বাজার। আমাদের বাংলাদেশেও অনেকেই ফ্রীল্যান্সিং এর মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। মূলত ইচ্ছেমত কাজের সুবিধা থাকায় যে কেউ, যেকোন সময় ফ্রীল্যান্সিং করতে পারে। আয়ের দিক থেকে িএসব কাজ কোন অংশে কম নয়। উদাহরণ স্বরুপঃ একজন সাধারণ মানের ওয়েব ডিজাইনের কাজের পারিশ্রমিক মাসে ৩০০ হতে ১০০০ ডলার বা তার চেয়ে বেশি হতে পারে। প্রতি মূহুর্তেই নতুন নতুন কাজ আসছে। এক অসীম সম্ভাবনাময় কাজে আমাদের বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে আসলে অদূর ভবিষ্যতে ফ্রীল্যান্সিং হতে পারে জাতীয় আয়ের প্রধান উৎস, বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করার প্রধান হাতিয়ার। অনেক দিক থেকেই বাংলাদেশ ফ্রীল্যান্সিং করে এ সুবিধা অর্জন করতে সক্ষম। তুলনামূলক কম খরচে আমরা কাজ করে দিতে পারবো। শুধু প্রয়োজন কম্পিউটারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা ও কাজ করার পূর্ণ মানসিকতা প্রস্তুতি।
আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ
আমাদের তরুণরা আউটসোর্সিং সেক্টরকে বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে এসেছে সরকারের প্রায় কোনো প্রকার সাহায্য ছাড়াই। এখন এই সেক্টরের আরো উন্নয়নের জন্য সরকারকে পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে আসা উচিত। কর্তপক্ষ যে সব সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে আইটি শিল্পগুলোর জন্য একটি বিশেষ জোন গড়ে তোলা এবং সুশিক্ষিত তরুণদেরকে এই সেক্টরে যোগ দিতে উৎসাহিত করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা। আমাদের সরকার মূলত তিনটি বিষয় নিশ্চিত করলে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং এ শীর্ষে চলে আসবে।
১। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। ২। স্বল্প মূল্যে সবার কাছে দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট পৌঁছানো এবং ৩। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। এছাড়াও বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোতে আউটসোর্সিং সম্পর্কে বিভিন্ন প্রোগ্রাম প্রচারনা প্রয়োজন।
আউটসোর্সিং ও বাংলাদেশ
এ দেশের প্রায় ৭৫ ভাগ প্রজন্মই তারুণ্য নির্ভর। তাই জনসংখ্যা এদেশের জন্য সমস্যা নয়, বরং সম্পদ। তবে সুদক্ষ আর পেশাভিত্তিক দক্ষতা ছাড়া এ জনসংখ্যা জাতীয় সম্পদ হিসেবে কাজে আসবে না। এ জন্য সরকারকে প্রণোদনা প্যাকেজের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এদেশের উৎসাহী তরুণরা ওডেস্কের তালিকায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। সম্মাননায় বাংলাদেশের তরুণরা আরও উৎসাহিত হবে। কাজে উদ্যম আসবে। বর্তমান সময়ে পুরো বিশ্বেই আউটসোর্সিং নির্ভরতা বাড়ছে। স্থির অফিসের তুলনায় এখন চলমান বা ভার্চুয়াল অফিস পদ্ধতিই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দিন দিন। আর বাংলাদেশে এ কাজের জন্য চমৎকার পরিবেশ রয়েছে। এ খাতে সুনির্দিষ্ট পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন আছে। তরুণরা উৎসাহ চায়। আর তা তাদের দিতে পারলে যেকোন অর্জনই সহজ হয়ে আসবে। বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে আউটসোর্সিং এ গুরুত্বপূর্ণ
বাজার হিসেবে তুলে ধরেছে। বিশ্বের কোন দেশই এখন আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশকে খাটো করে দেখে না। বরং সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়েছে।
.jpg)














0 comments